Constipation বা কোষ্টকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া পদ্ধতি ও চিকিৎসার পদক্ষেপ সমূহ

Constipation বা কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং ঘরোয়া চিকিৎসা

কোষ্টকাঠিন্য কি ? বা Constipation কি?

Constipation বা কোষ্টকাঠিন্য হলো পরিপাক তন্ত্রের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। যার ফলে মলত্যাগ করা কঠিন হয়, বা মলত্যাগ হয় না। যেটি খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং যা সঠিক খাদ্যাভ্যাস, তরল জাতীয় খাবার ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে খুবই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ যদি লজ্জা করে অথবা অবহেলা করে দীর্ঘ মেয়াদী সময় এই কোষ্টকাঠিন্য বয়ে বেড়ায়, তাহলে এর ফলে কোলন ক্যান্সার ও অর্শ্ব রোগের মত কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে কোষ্টকাঠিন্যের ফলে খাবারের প্রতি অনিহা সৃষ্টি হয়, গ্যাস্টিক Gastric ও আলসারের Ulcers এর সমস্যাও তৈরি হয়।

Constipation বা কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার কারণ সমূহ।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের অনেক সম্ভাব্য কারণ রয়েছে। কখনও কখনও কোন সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই কোষ্টকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

কোষ্টকাঠিন্যের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

  1. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করা।
  2. খাবারে ফাইবারের অভাব থাকা। তথাঃ ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য শাক-সবজি, ভক্ষ্য শস্য, এবং ফল-ফলাদি পর্যাপ্ত পরিমাণ না খাওয়ার কারণে।
  3. যথেষ্ট সময় হাঁটা-চলা না করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে থাকা।
  4. ব্যায়াম বা প্রাত্যহিক Exercise না করা।
  5. প্রায়শই টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা।
  6. আপনার খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিনের খাবারের রুটিন পরিবর্তন করার ফলে।
  7. অধিক পরিমাণে গোস্ত খাওয়া।
  8. ধূমপান ও মদ্যপান করা।
  9. আপনার ব্যবহারকৃত ঔষধের একটি প্বার্শ প্রতিক্রিয়া হিসেবেও কোষ্টকাঠিন্য হতে পারে।
  10. মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতাও আপনার Constipation এর কারণ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরে নারীদের কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। বিশেষ করে কালো রঙের মানুষ বা 65 বছরের বেশি বয়স্ক মানুষদের এটি হওয়া খুবই সাধারণ।

কোষ্টকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায় এবং চিকিৎসা।

ঘরোয়া ও প্রাকৃতিকভাবে কোষ্টকাঠিন্য দূর করার সহজ উপায় ও চিকিৎসার পদক্ষেপ সমূহ।

"Adx"
  • প্রথমত প্রতিদিন একটি স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন, এবং খাদ্য তালিকায় Sorbitol যুক্ত ফল অন্তর্ভুক্ত করুন। যেমনঃ আপেল, এপ্রিকট, আঙ্গুর (এবং কিশমিশ), রাস্পবেরি এবং স্ট্রবেরি।
  • প্রচুর পরিমাণ পানি ও অন্যান্য তরল পানীয় (জুস) পান করুন। এবং অ্যালকোহল ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে আপনার খাবারে ফাইবার বৃদ্ধি করুন। আপনার খাদ্যতালিকায় কিছু গমের ভুসি, ওটস, ইসবগুল, এবং তোকমা যোগ করুন
  • আপনার টয়লেটের রুটিন উন্নত করে একটি সময় নির্দিষ্ট করুন। টয়লেটের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান এবং স্বাভাবিক সময় চয়ন করুন। এবং টয়লেট ব্যবহার করার জন্য নিজেকে কমপোর্ট সময় দিন।
  • টয়লেটের তাগিদ অনুভব করলে দেরি করবেন না। মলত্যাগ করা সহজ করার জন্য, টয়লেটে আপনার বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে বসুন।
  • আপনার কার্যকলাপ ও হাঁটা-চলা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিনের হাঁটা-চলা, দৌড়, বা ব্যায়াম আপনাকে নিয়মিতভাবে সহজে মলত্যাগ করতে সাহায্য করতে পারে।

তবে কোষ্টকাঠিন্য দূর করার জন্য বেশ কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। যেমনঃ মভিকুল, Movicol Effervescent Sachet, Dulcolax Tablets, Ezilax এবং অন্যান্য Laxative Medications, কিন্তু এই ঔষধ গুলোর দীর্ঘ ব্যবহার আপনার স্বাভাবিক মলত্যাগে বাঁধা তৈরি করতে পারে।

"ADVERTISEMENT"

অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে কোষ্টকাঠিন্য দূর করার উপায় গ্রহণ না করে, দীর্ঘ সময় Laxative Medications ব্যবহার করলে আপনার জন্য এটি হুমকির কারণ হয়ে উঠবে। এবং পরবর্তীতে এগুলোর ব্যবহার ছাড়া আপনি মলত্যাগ করতে পারবেন না। সুতরাং কোষ্টকাঠিন্য দূর করার জন্য উপরে উল্লেখিত ঘরোয়া উপায় গুলো অবলম্বন করুন। এবং আপনার খাদ্যাভ্যাস ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করুন।

কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য কারী কিছু আয়ুর্বেদিক বা ঘরোয়া রেসিপি।

Constipation বা কোষ্টকাঠিন্য হওয়ার কারণ ও প্রতিকার এবং ঘরোয়া চিকিৎসা

আয়ুর্বেদ ক্লিনিক এর পরিচালক ড. কপিল ত্যাগী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ও প্রতিকার গড়তে নিম্নোক্ত এই পরামর্শগুলো দিয়ে থাকেন।

ত্রিফলা মিহির চা সেবন করে কোষ্টকাঠিন্যের প্রতিকার করা।

চিকিৎসকদের মতে, ত্রিফলায় রয়েছে গ্লাইকোসাইড। যা কোষ্টকাঠিন্যের প্রতিকার করতে অন্যতম ও কার্যকরী প্রাকৃতিক মশলা। কোষ্টকাঠিন্য দূর করতে প্রতিদিন গরম পানিতে ত্রিফলা মিশিয়ে চা তৈরি করে খেতে পারেন। আপনি ত্রিফলার এক চতুর্থাংশ চামচের সঙ্গে আধা চা চামচ ধনিয়া বীজ এবং এক চতুর্থাংশ এলাচ বীজ যোগ করতে পারেন। এগুলো একসঙ্গে পিষে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়েও পান করতে পারেন।

ভাতা দোষ নিয়ন্ত্রণের জন্য তাজা ও গরম খাদ্য গ্রহণ করুন।

আয়ুর্বেদ অনুসারে, ‘ভাতা’ এটি শরীর ও মনের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে তাজা রান্না করা খাবার খেতে হবে। প্রোটিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, এবং সব সময়ই খাবার গরম করে খাওয়া, গরম পানীয় ও বেশী বেশী শাক-সবজি এবং সালাদ তৈরি করে খাওয়া। এতে প্রাকৃতিকভাবেই খুব কম সময়ে কোষ্টকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। ইনশাআল্লাহ

ভাজা মৌরি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করে

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ ভাজা মৌরি মিশিয়ে নিন। মৌরির বীজ গ্যাস্ট্রিক এনজাইম তৈরি করতে সাহায্য করে, যা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের গতিবিধি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বেলের শরবত পান করুন ও Sorbitol যুক্ত ফলের শরবত পান করুন।

আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রাতে ঘুমানোর পূর্বে আধা কাপ বেলের পাল্প এক চামচ গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। কারণ বেলের মধ্যে রেচক বা Laxative বৈশিষ্ট্যতা রয়েছে, যেটি সল্প কিছুদিন ব্যবহারে আপনার মলত্যাগ স্বাভাবিক করে আনবে। এছাড়াও বেশী বেশী পানীয় বা Sorbitol সমৃদ্ধ ফলগুলোর জুস তৈরি করে পান করুন।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য সম্পূরক গ্রহণ করুন।

কোষ্টকাঠিন্য দূর করার জন্য একদম নিরাপদ ও অর্গানিক খাবার পদ্ধতি অনুসরণ পূর্বক আপনি দীর্ঘ সময়ের জন্য বা একাধারে ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত ফাইবার ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাদ্য সম্পূরক গ্রহণ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আপনার পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পাবে। এবং হজম শক্তির উন্নতি ঘটবে।

এমনকি প্রোবায়োটিক (Probiotics) ও ফাইবার (fibres) সমৃদ্ধ খাদ্য পরিপূরক গ্রহণ করলে আপনার পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা গুলোর অবসান হবে। সাথে কোষ্টকাঠিন্য ও অর্শ্ব রোগের মত কঠিন রোগ প্রতিরোধ করা যাবে। আপনি চাইলে বাজারে উপলব্ধ প্রোবায়োটিক ও ফাইবার সমৃদ্ধ ফুড সাপলমেন্ট ক্রয় করতে পারেন। যেমনঃ Ekaflor Fibers and Probiotics Sachet, Dicoflor Tablets, Forever Fiber Supplement, Fiber Capsules, Fiberlax Effervescent Granules এবং এই জাতীয় খাদ্য সম্পূরক গুলো।

অথবা ঘরেই Sorbitol যুক্ত ফল এবং শাক-সবজি এবং সালাদ বেশি পরিমাণে খেতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির সহজ উপায় ও ডায়েট।

pharmacyseba.com

See all author post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are makes.